শ্রীধাম মায়াপুর, ইসকন, নামহট্ট:
কলিযুগে কলির প্রভাবে সমস্ত জীব যখন দুঃখ ক্লেশে জড় জড় তখন কি করে এই ভক্তি বিহীন সমাজে জটিল কুটিল অভিমানপূর্ণ সংসারে অবস্থান করে ভগবানের তটস্থাশক্তি জীব অহর্নিশি কায়-মন-বাক্যে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সাধন ভজন করে অপ্রাকৃত শাশ্বত আনন্দময় জীবনে উন্নীত হয়ে নিত্য কৃষ্ণ সেবায় যুক্ত হতে পারে,সেই শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে পরম করুণাময় ভগবান শ্রী চৈতন্যদেব “গোলকের প্রেমধন হরিনাম সংকীর্তন নিয়ে ভূলোকে আবির্ভূত হলেন এবং শ্রী নিত্যানন্দ প্রভুকে সেই প্রেমধন প্রতিটি জীবের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে আদেশ করলেন। তাই শ্রী নিত্যানন্দ প্রভু সুরভী কুঞ্জকে কেন্দ্র করে নামহট্টের প্রতিষ্ঠা করলেন। শ্রীমান নিত্যানন্দ প্রভুর ন্যায় মহাপ্রভুর সেই আদেশ শিরোধার্য করে সেই প্রেমধন শ্রীধাম মায়াপুরের ইসকন নামহট্টের ভক্তরা এখনও প্রত্যেক জীবের দ্বারে দ্বারে প্রেরিত করছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রকৃত সত্য সমন্ধে মানুষের কোনো ধারণা না থাকার কারনে শতকরা প্রায় নিরানব্বই ভাগ মানুষ সত্যের নামে অসত্যের পথে অনুগমন করছে। তাই বিষয়াশক্ত মানুষের কাছে প্রকৃত সত্যতা সমন্ধে জানানোর জন্য ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ঝাড়খন্ড, বাঁকুড়া, ও পুরুলিয়া জেলার ভক্তবৃন্দদের একত্রিত করে শ্রীধাম মায়াপুরের নামহট্ট ভবনে এই জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রচারক পুজ্যপাদ শ্রীবাস চরন দাস ব্রহ্মচারী  প্রভু এক দিব্য আনন্দানুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।
২৪ শে সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০০ টায় ভক্তদের শুভ আগমন ঘটে। দুপুর ১২ টায় সমস্ত ভক্তরা একত্রিত হয়ে সংকীর্তন সহযোগে গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে রওনা হন । এরপর বৈকাল ৪:৩০ টায় ভজন কীর্তন শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের দ্বারা এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ এবং শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌড় চন্দ্র স্বামী মহারাজ। বৈকাল ৫:০০ ঘটিকায় শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ভক্তদের প্রতি তাঁর অমৃতময় আশির্বাদ বচন প্রদান করেন।
শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ছাড়াও,এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী মহারাজ, পূজ্যপাদ পদ্মনেত্র দাস ব্রহ্মচারী প্রভু, শ্রীপাদ প্রেমাঞ্জন প্রভু এবং অন্যান্য জেলা প্রচারকবৃন্দ। সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে বৈষ্ণব মহাজনগণ বীরোচিত ভজন,কীর্তন ও বৈদিক নৃত্যানুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দমুখর হয়ে ওঠে নামহট্ট এর চারিদিক।
২৫ শে সেপ্টেম্বর মন্দিরে শুভ মঙ্গলারতি দর্শন করে এই দিনের সূচনা হয়। তারপর সমস্ত ভক্তগণ টি.ও.ভি.পি এবং পুষ্পসমাধি মন্দির দর্শনের জন্য রওনা দেন। তারপর শ্রীপাদ পদ্মনেত্র প্রভু কতৃর্ক শ্রীমদ্ভাগবতম কথা আলোচিত হয় নামহট্ট ভবনে। তারপর থাকে ভজন,কীর্তন ও অনুকল্প প্রসাদ সেবন। এরপর এই জেলার সমস্ত নামহট্ট সম্পাদক, সঙ্গদাস, কোষাদক্ষ, সভাপতি,উপ চক্র সেনাপতি ও চক্র সেনাপতিদের নিয়ে এক ইস্ট গোষ্ঠীর আয়োজন করা হয়।
এরপর দুপুর ২ টায় অনুকল্প প্রসাদ গ্রহণ করে বৈকাল ৪ ঘটিকা থেকে ভজন কীর্তন ও গীতার শ্লোক আবৃত্তি করা হয়। বৈকাল ৫ ঘটিকায় শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌরচন্দ্র স্বামী মহারাজ হরি কথা পরিবেশিত হয়।
এছাড়াও থাকে বৈদিক নৃত্যানুষ্ঠান, শিক্ষামূলক বৈদিক নাটক এবং সবশেষে থাকে নামহট্ট মেলার গুরুত্ব উপলব্ধি সম্পর্কে ভক্তদের মতামত প্রেরণ।
তারপর ঝাড়খন্ড, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া জেলার সমস্ত ভক্তদের উদ্দেশ্যে এই জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রচারক পূজ্যপাদ শ্রীবাস চরণ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু এক দিব্য উপহার প্রদান করেন।
পরের দিন ভোর ৫:৩০ মিনিটে সংকীর্তন সহযোগে সমস্ত ভক্ত শ্রী মহাপ্রভুর জন্মস্থান যোগপীঠ দর্শনে যান এবং সেখানে হরিকথা শ্রবণ করার পর আবার সংকীর্তন সহযোগে নামহট্ট ভবনে ফিরে আসেন, প্রাতঃকালীন মহাপ্রসাদ সেবন করার পর নামহট্ট প্রচারের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ গৃহাভিমুখে প্রত্যাবর্তন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here