শ্রীধাম মায়াপুর,ইসকন, নামহট্ট,
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু ভবিষ্যৎবাণী করেছেন পৃথিবীতে আছে যত নগরাদি গ্রাম /সর্বত্র প্রচার হইবে মোর নাম ” তা প্রায় ৫০০ বছর আগের কথা, তখন সাধারণ মানুষ জানতেন না পৃথিবীটা কত বড় এবং সেখানে কত নগর-গ্রাম রয়েছে। সেই সমস্ত নগর ও গ্রামে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাণী প্রচারের কথা তারা কল্পনাও করতে পারতেন না। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হলেন স্বয়ং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। তাই তাঁর ভবিষ্যৎবাণী কখনো ব্যর্থ হয় না। তিনি যখন ইচ্ছা করেছেন সারা পৃথিবীর প্রতিটি নগর ও গ্রামে কৃষ্ণভক্তির প্রচার হোক তখন তা হবে। তাই জন্যই শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন নামহট্ট বিভাগের ভক্তবৃন্দ অক্লান্ত পরিশ্রম করে মহাপ্রভুর এই বাণী মাথায় ধারন করে প্রচারকার্য চালিয়ে যাচ্ছেন বিশ্রামহীন ভাবে। এবং সেই প্রচারকার্য যেন আরও ভালোভাবে সংঘটিত হয় তাই গত ২০ এবং ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভক্তবৃন্দ দের নিয়ে এক দিব্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রচারক পূজ্যপাদ সুদামা সখা দাস ব্রহ্মচারী প্রভু।
২০ সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০০ টায় ভক্তদের শুভ আগমন ঘটে। দুপুর ১২ টায় সমস্ত ভক্তরা একত্রিত হয়ে হরিনাম সংকীর্তন সহযোগে রওনা হন গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে। বৈকাল ৪:৩০ মিনিটে ভজন কীর্তন শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের দ্বারা এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ এবং শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী মহারাজ। ৫:০০ ঘটিকায় শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ২৪ পরগনার সমস্থ ভক্তদের প্রতি তাঁর অমৃতময় আশির্বাদ বানী প্রদান করেন।
শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ছাড়াও,এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী মহারাজ, পূজ্যপাদ পদ্মনেত্র দাস ব্রহ্মচারী প্রভু, পূজ্যপাদ বিশ্বজিৎ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু, শ্রীপাদ প্রেমাঞ্জন প্রভু এবং অন্যান্য জেলা প্রচারকবৃন্দ। সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে বৈষ্ণব মহাজনগণ বীরোচিত ভজন কীর্তন ও সুভদ্রা নৃত্যগোষ্ঠী দ্বারা নৃত্যানুষ্ঠান সংঘটিত হয়।
২১ সেপ্টেম্বর মন্দিরে শুভ মঙ্গলআরতি দর্শন করে দিনের সূচনা হয়। এরপর সমস্ত ভক্তগণ দের নিয়ে পূজ্যপাদ সুমধুর গৌর দাস প্রভু হরিনাম জপ অনুশীলন করেন। তারপর সকাল ৮ টায় শ্রীল প্রভুপাদের অন্যতম কৃপা ধন্য শিষ্য শ্রী শ্রীমৎ সুভগ স্বামী গুরু মহারাজ কতৃর্ক নামহট্ট ভবনে শ্রীমদ্ভাগবতম কথা আলোচিত হয়। তারপর থাকে ভজন কীর্তন ও মহা প্রসাদ সেবন।
এরপর সকাল ১০:০০ থেকে ভজন শুরু হয় ভজন,কীর্তন,অঙ্কন প্রতিযোগিতা ও গীতার শ্লোক আবৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এরপর সকাল ১১:১৫ তে হরিকথা সমন্ধে প্রবচন দেন শ্রীল প্রভুপাদের শিষ্য পূজ্যপাদ জননীবাস দাস ব্রহ্মচারী প্রভু। তারপর দুপুর ১২ টায় হয় নাট্যানুষ্ঠান এবং শ্রী শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌরচন্দ্র স্বামী মহারাজ কর্তৃক প্রবচন। এরপর দুপুর ১:২০ তে প্রশ্ন উত্তর প্রতিযোগিতা শুরু হয় তৎপরে মহাপ্রসাদ বিতরণ হয়। বিকেল ৪:০০ ঘটিকায় ভজন কীর্তনের মাধ্যমে অপরাহ্নকালীন অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। বৈকাল ৫ ঘটিকায় শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ কর্তৃক হরিকথা আলোচিত হয় এবং ৬ টায় পূজ্যপাদ বিশ্বজিৎ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু ভক্তদের উদ্দেশ্যে কিছু ভাগবতীয় কথা প্রদান করেন। এরপর সমস্ত ভক্ত সন্ধারতি তে যোগদান করেন। সন্ধ্যারতির পর ৭ টা ১৫ মিনিটে রাধাকুঞ্জবিহারী নৃত্যগোষ্ঠী দ্বারা বৈদিক নৃত্যানুষ্ঠান সংঘটিত হয়।
এছাড়াও সবশেষে থাকে নামহট্ট মেলার গুরুত্ব উপলব্ধি সম্পর্কে ভক্তদের মতামত প্রেরণ।
তারপর উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সমস্ত ভক্তদের উদ্দেশ্যে এই জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রচারক এক দিব্য উপহার প্রদান করেন।

পরের দিন ভোর ৫:৩০ মিনিটে সংকীর্তন সহযোগে সমস্ত ভক্ত শ্রী মহাপ্রভুর জন্মস্থান যোগপীঠ দর্শনে যান এবং সেখানে হরিকথা শ্রবণ করার পর আবার সংকীর্তন সহযোগে নামহট্ট ভবনে ফিরে আসেন, প্রাতঃকালীন মহাপ্রসাদ সেবন করার পর নামহট্ট প্রচারের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ গৃহাভিমুখে প্রত্যাবর্তন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here