শ্রীধাম মায়াপুর,ইসকন, নাম হট্ট,

সৃষ্টির আগে থেকেই পরম করুণাময় ভগবান জড় বন্ধনে আবদ্ধ জীবকে অমৃতময় বাণী দিয়ে মুক্তির পথ দেখিয়ে আসছেন। তাঁর দেওয়া সেই উপদেশ যখন আমরা ভুলে যাই, তখনই আমরা বিপথগামী হই। মায়ার প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে নানা রকম কষ্ট পায়। ভগবানবিমুখ সমাজে মানুষ কখনই সুখে থাকতে পারে না, আর সেজন্যই শ্রীল প্রভুপাদ সারা পৃথিবীকে ভগবতমুখী করার জন্য সমগ্র বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার ব্রত গ্রহণ করেছেন এবং সেইজন্য শ্রীধাম মায়াপুর এর ইসকন নামহট্ট বিভাগের ভক্তগণ ভগবানের দিব্যনাম পৌঁছে দিচ্ছেন প্রতিটি মানুষের গৃহ তথা প্রতিটি মানুষের অন্তরে। মানুষের হৃদয়ে বপন করছেন ভক্তি লতার বীজ। আর সেই বীজকে হরিনাম রূপ জল সিঞ্চন এর মাধ্যমে অঙ্কুরোদগম এ পরিণত করার জন্য তাঁরা অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তাই ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে শ্রীধাম মায়াপুর ইসকন নামহট্ট ভবনে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভক্তবৃন্দ দের নিয়ে এক দিব্য মিলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
১৪ ই সেপ্টেম্বর সকাল ৯:০০ টায় ভক্তদের শুভ আগমন ঘটে। দুপুর ১২ টায় সমস্ত ভক্তরা একত্রিত হয়ে কীর্তন সহযোগে রওনা হন গঙ্গাস্নানের উদ্দেশ্যে। বৈকাল ৪:৩০ মিনিটে ভজন কীর্তন শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ সহযোগে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্জ্বলনের দ্বারা এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ এবং শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী মহারাজ। বৈকাল ৫:০০ ঘটিকায় শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ভক্তদের প্রতি তাঁর অমৃতময় আশির্বাদ বচন প্রদান করেন।
শ্রী শ্রীমৎ গৌরাঙ্গ প্রেম স্বামী মহারাজ ছাড়াও,এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীমৎ ভক্তি বিলাস গৌর চন্দ্র স্বামী মহারাজ, পূজ্যপাদ পদ্মনেত্র দাস ব্রহ্মচারী প্রভু, পূজ্যপাদ বিশ্বজিৎ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু, শ্রীপাদ প্রেমাঞ্জন প্রভু এবং অন্যান্য জেলা প্রচারকবৃন্দ। সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে বৈষ্ণব মহাজনগণ বীরোচিত ভজন কীর্তন আনন্দ মুখর হয়ে ওঠে নামহট্ট এর চারিদিক।
১৫ ই সেপ্টেম্বর মন্দিরে শুভ মঙ্গলআরতি দর্শন করে দিনের সূচনা হয়। তারপর সমস্ত ভক্তগণ টি.ও.ভি.পি এবং পুষ্পসমাধি মন্দির দর্শনের জন্য রওনা দেন। তারপর শ্রীপাদ পদ্ম নেত্র প্রভু কতৃর্ক শ্রীমদ্ভাগবতম কথা আলোচিত হয় নামহট্ট ভবনে। তারপর থাকে ভজন কীর্তন ও মহা প্রসাদ সেবন। এরপর এই জেলার সমস্ত সেক্রেটারি, উপ চক্রপতি, চক্রপতি,মহা চক্রপতি, ও মালা চক্র সেনাপতিদের নিয়ে এক ইস্ট গোষ্ঠীর আয়োজন করা হয়।
এরপর সকাল ১১:৩০ থেকে ভজন কীর্তন, অংকন, গীতার শ্লোক আবৃত্তি এবং বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হয় এরপর দুপুর ১ টায় হরিকথা আলোচনা হয় এই দিন রচনা করেছিলেন পূজ্যপাদ জীবানন্দ প্রভু। বিকেল ৪:৩০ ঘটিকায় শ্রীপাদ জননিবাস প্রভু এবং পঙ্কজাঘ্রী প্রভু এই অনুষ্ঠানে এসে তাদের আশীর্বাদ বাণী প্রদান করেন।
সন্ধ্যারতির পর পূজ্যপাদ ড: প্রেমাঞ্জন প্রভু হরি কথা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এছাড়াও থাকে বৈদিক নৃত্যানুষ্ঠান, শিক্ষামূলক বৈদিক নাটক এবং সবশেষে থাকে নামহট্ট মেলার গুরুত্ব উপলব্ধি সম্পর্কে ভক্তদের মতামত প্রেরণ।
তারপর ঝারগ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সমস্ত ভক্তদের উদ্দেশ্যে এই জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রচারক পূজ্যপাদ পরম দয়াল গৌরাঙ্গ দাস ব্রহ্মচারী প্রভু এক দিব্য উপহার প্রদান করেন।
পরের দিন ভোর ৫:৩০ মিনিটে সংকীর্তন সহযোগে সমস্ত ভক্ত শ্রী মহাপ্রভুর জন্মস্থান যোগপীঠ দর্শনে যান এবং সেখানে হরিকথা শ্রবণ করার পর আবার সংকীর্তন সহযোগে নামহট্ট ভবনে ফিরে আসেন, প্রাতঃকালীন মহাপ্রসাদ সেবন করার পর নামহট্ট প্রচারের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ গৃহাভিমুখে প্রত্যাবর্তন করেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here